বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের জন্মদিনে তাঁর দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিনয়জীবন, কাজের ঝুলিতে অর্জিত সাফল্য এবং মনের মতো সাহিত্যনির্ভর চরিত্রে অভিনয় করতে না পারার জীবনের গভীর আক্ষেপ ফুটে উঠেছে।
এক নজরে মূল বিষয়াবলি
- জন্ম ও সাহিত্যিক অনুপ্রেরণা: ১৯৪৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে সাহিত্যিক হতে চেয়েছিলেন; তাঁর লেখা ‘অবহেলা’ গল্পটির প্রশংসা করেছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। এছাড়া সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শওকত আলী ও অজিত কুমার গুহর সান্নিধ্য পেয়েছেন।
- ক্যারিয়ার ও টার্নিং পয়েন্ট: ১৯৬৫ সালে ‘ন্যায়ী জিন্দেগি’ (অমুক্তিপ্রাপ্ত) দিয়ে যাত্রা শুরু। ১৯৭৪ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট গড়ে দেয়।
- কাজের ব্যাপ্তি: তিনি ৩ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, ১০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন।
- স্বীকৃতি ও সম্মাননা: ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০১৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অভিনয় নিয়ে আক্ষেপ ও জীবনদর্শন
- পেটের তাগিদে অভিনয়: শেষ জীবনে হাসপাতালে শুয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অভাব ও পেটের তাগিদে তাঁকে বাণিজ্যিক বা কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে যেতে হয়েছে, যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘বিষবৃক্ষ’ বা ‘বিরহ ব্যথা’র মতো সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে বেশি অভিনয় করা হয়নি।
- আজীবন সম্মাননার প্রতিক্রিয়া: আজীবন সম্মাননা পাওয়ার খবর শুনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, নিজেকে উজাড় করে মনের মতো অভিনয় করতে না পারায় এই পুরস্কারের যোগ্য তিনি নিজেকে মনে করেন না।



